কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবার ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ওসমান গনি ভূঁইয়ার সমর্থক গোষ্ঠীর আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া না দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ইফতারের পর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামে সভাপতির নিজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
ইফতার পরবর্তী এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মো. তালিম, মাহআলম, মো. মুকবুল ও মজিবুর রহমান। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মজিবুর রহমানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা প্রেরণের পরামর্শ দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা বিএনপি সভাপতির সমর্থকরা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি মো. তফাজ্জল হোসেন উপস্থিত হলে কলাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান ক্ষুব্ধ হন। আনিছুর রহমানের অভিযোগ, তফাজ্জল হোসেন আওয়ামী লীগের ‘দালাল’, তাই তাকে কেন দাওয়াত দেওয়া হলো? এই নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মামলার বাদী তফাজ্জল হোসেন জানান, আয়োজকদের আমন্ত্রণে তিনি সামাজিকতা রক্ষায় সেখানে গিয়েছিলেন। ইফতার শেষে অন্য এক নেতার সঙ্গে কথা বলার সময় আনিছুর রহমান তাকে গালিগালাজ ও মারধর শুরু করেন। তাকে বাঁচাতে স্বজনরা এগিয়ে এলে তাদেরও এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে সাতজনকে আসামি করে থানায় মামলা করেছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ দ্রুত মাছিমপুর গ্রামে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল থেকে রবিন নামের একজনকে আটক করা হয়েছে এবং শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনিছুর রহমানের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়েই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
