বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ তাদের সাম্প্রতিক প্রচ্ছদে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে। ওয়াশিংটন তাদের এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন এপিক ফিওরি’, যার আক্ষরিক অর্থ হলো এক অত্যন্ত শক্তিশালী ও মহাকাব্যিক আক্রমণ। তবে পত্রিকাটি এই নামটিকে পাল্টে দিয়ে একে ‘অপারেশন ব্লাইন্ড ফিওরি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
ইকোনমিস্টের এই নামকরণের পেছনে রয়েছে গভীর এক সমালোচনামূলক বার্তা। যেখানে ‘এপিক ফিওরি’ শব্দটির মাধ্যমে এক ধরনের সুশৃঙ্খল ও বিশাল সামরিক সক্ষমতার প্রকাশ ঘটে, সেখানে ‘ব্লাইন্ড ফিওরি’ বলতে বোঝায় অন্ধ রাগ বা এমন এক আক্রমণ যাতে পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার চরম অভাব রয়েছে। পত্রিকাটি মূলত মার্কিন এই অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ওয়াশিংটন যে ধরনের সামরিক কৌশলে এগোচ্ছে, তাকে ইকোনমিস্ট অনেকটা হঠকারী এবং লক্ষ্যহীন বলে মনে করছে।
পত্রিকাটির প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, কেবল শক্তির আস্ফালন দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সমীকরণ সমাধান করা সম্ভব নয়। বরং পর্যাপ্ত কৌশলগত বিচার-বিবেচনা ছাড়া এ ধরনের ‘অন্ধ রাগ’ ভিত্তিক আক্রমণ হিতে বিপরীত হতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে আরও বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে।
এই প্রতিবেদনটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে, পরাশক্তিগুলোর সামরিক সক্ষমতা থাকলেও সঠিক প্রজ্ঞার অভাবে সেই শক্তি অনেক সময় অন্তঃসারশূন্য ও ব্যর্থ বলে প্রমাণিত হতে পারে।
