ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে যৌক্তিক প্রমাণ করতে গিয়ে যিশু খ্রিস্টকে নিয়ে এক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে ইতিহাসের কুখ্যাত মঙ্গোল বিজেতা চেঙ্গিস খানের তুলনা করেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
নেতানিয়াহু ঐতিহাসিক উইল ডুরান্টের একটি উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, যদি কোনো সভ্যতা নিজেকে রক্ষা করার ক্ষমতা না রাখে, তবে ইতিহাসের পাতায় যিশু খ্রিস্টের মতো ব্যক্তিত্বও চেঙ্গিস খানের বিরুদ্ধে কোনো বাড়তি সুবিধা পান না। তিনি যুক্তি দেন যে, কেবল নৈতিক আদর্শ দিয়ে টিকে থাকা সম্ভব নয়; শত্রুর মোকাবিলা করতে হলে শক্তির প্রয়োজন।
তার এই মন্তব্যটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং আমেরিকার কট্টরপন্থী রক্ষণশীল খ্রিস্টান ও উদারপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। অনেকেই তার এই বক্তব্যকে ‘খ্রিস্টধর্মের অবমাননা’ এবং ‘নির্লজ্জ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধের ন্যায্যতা দিতে গিয়ে পবিত্র একজন ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এমন তুলনা করা অত্যন্ত আপত্তিকর।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি যিশু খ্রিস্টের প্রতি সরাসরি অবমাননা। তিনি উল্লেখ করেন যে, একদিকে নেতানিয়াহু পশ্চিমা খ্রিস্টান বিশ্বের সমর্থন চান, অন্যদিকে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানছেন। এটি তার ‘যুদ্ধাপরাধী’ মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
তীব্র সমালোচনার মুখে শুক্রবার (২০ মার্চ) নেতানিয়াহু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি একে ‘ফেক নিউজ’ বা মিথ্যা খবর হিসেবে দাবি করে বলেন, তিনি যিশু খ্রিস্টকে অপমান করতে চাননি। তিনি কেবল ডুরান্টের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন যে, অশুভ শক্তির বিনাশ করতে হলে শুধু ভালো মানুষ হওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন।
ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে আমেরিকায় তার রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে এই নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
