ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক ফিলিপ সাংমাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালত। শনিবার (২১ মার্চ) পুলিশ রিমান্ড শেষে তাকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাকে দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
ফিলিপ সাংমার বিরুদ্ধে অভিযোগ, হাদি হত্যার প্রধান দুই অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেনকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে ভারতে প্রবেশে তিনি সরাসরি সহায়তা করেছিলেন। গত ১৩ মার্চ পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার শান্তিপুর বাইপাস এলাকা থেকে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে আদালত তাকে সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছিল।
এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যা মামলায় আগে গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ফিলিপের নাম উঠে আসে। তারা জানায়, বাংলাদেশের হালুয়াঘাট এলাকার বাসিন্দা ও সীমান্ত দালাল ফিলিপ সাংমার মাধ্যমে তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তদন্তে আরও দেখা যায়, বাংলাদেশে পুলিশের তৎপরতা বাড়লে ফিলিপ নিজেও অবৈধভাবে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে আত্মগোপন করেন।
অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ফিলিপ সাংমার বিরুদ্ধে ভারতের ‘১৪ ফরেনারস অ্যাক্ট’-এ মামলা দায়ের করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, হাদি হত্যার ষড়যন্ত্র ও আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, সে বিষয়ে ফিলিপের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। তার এই জেল হেফাজতের সময়কালে তদন্তের অন্যান্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন এলাকায় হেলমেট পরিহিত দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদি। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই হত্যাকাণ্ডটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
