যুক্তরাজ্য শাখা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিকে কেন্দ্র করে সভাপতি পদপ্রার্থী ফখরুল কামাল জুয়েলকে ঘিরে এক নজিরবিহীন বিতর্ক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসির খোরাক তৈরি হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত এই সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে তার অভিবাসন সংক্রান্ত অতীত এবং ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে ওঠা নানা অভিযোগ এখন নেটিজেনদের আলোচনার প্রধান বিষয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, ফখরুল কামাল জুয়েল যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভের জন্য নিজেকে ‘সমকামী’ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফেসবুক ও এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে তার ব্রিটিশ রেসিডেন্স পারমিটের ছবিসহ এই সংক্রান্ত তথ্যাদি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে তীব্র ট্রল ও সমালোচনা।
অভিযোগের তালিকায় আরও রয়েছে পরিচয় জালিয়াতির তথ্য। দাবি করা হচ্ছে, জুয়েল যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সময় নিজের প্রকৃত নাম গোপন করে ‘ফয়সল আহমেদ’ নামের অন্য এক ব্যক্তির পরিচয় ব্যবহার করেছিলেন। পরবর্তীতে সেই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমেই তিনি দেশটির অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন।
এই ঘটনাটি সামনে আসার পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাকিব হাসান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “যেখানে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি উঠছে, সেখানে সভাপতি পদপ্রার্থী হওয়ার জন্য নিজের পরিচয় লুকিয়ে সমকামী সেজে আশ্রয় নেওয়া অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটি কেবল ব্যক্তিগত সততার অভাব নয়, বরং গোটা সংগঠনের জন্য একটি বড় ট্রল।”
সংগঠনের শীর্ষ পদের একজন দাবিদারের বিরুদ্ধে এমন নৈতিক স্খলন ও জালিয়াতির অভিযোগ আসায় যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও প্রকট হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, এমন বিতর্কিত অতীত নিয়ে তিনি কীভাবে একটি রাজনৈতিক শাখার নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন।
