ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আরাদে ইরানের ভয়াবহ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ৮৮ জন আহত হয়েছেন। অবৈধ এই ভূখণ্ডের একাধিক শহরে চালানো শক্তিশালী এই মিসাইল হামলায় অন্তত ২০টি ভবন ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স সেবা বিভাগ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
আহত ৮৮ জনের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন এবং ১৯ জনের আঘাত মাঝারি ধরনের বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো। আরাদ শহরের একটি আবাসিক এলাকার জনবহুল কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্রটি সরাসরি আঘাত হানলে এই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। আহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। হামলার পর স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।
আরাদের পাশাপাশি ইসরায়েলের ডিমোনা শহরেও শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে ইরান। উল্লেখ্য, ডিমোনাতেই ইসরায়েলের বিতর্কিত পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র অবস্থিত। স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সেখানে একাধিক ভবন লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্রটি এখনো সুরক্ষিত আছে।
এদিকে, বিশ্বের অন্যতম আধুনিক দাবি করা ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে চরম তোলপাড় শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি বিমানবাহিনী জানিয়েছে, ধেয়ে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি মাঝপথে ধ্বংস করার দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এটি সরাসরি লোকালয়ে আঘাত হানে। কেন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি কাজ করেনি, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েলজুড়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সশরীরে ক্লাস বাতিল করেছে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয়। রবি ও সোমবার এই নির্দেশ বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ ইসরায়েলের এই জোড়া হামলায় প্রায় ১০০ জন আহত হওয়ার ঘটনায় পুরো দেশে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে আরাদ ও ডিমোনা শহরে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে মাঠে কর্মরত জরুরি ও উদ্ধারকারী বাহিনীগুলোকে সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনা করা হচ্ছে। এই হামলার পর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চূড়ান্ত যুদ্ধের রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
