ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে দলীয় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব শত্রুতার জেরে বিএনপির দুই পক্ষের ভয়াবহ সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ ২ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নে বিএনপির সমর্থক ‘বড় গোষ্ঠী’ ও ‘বাইদ্দা গোষ্ঠীর’ মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।
এ ঘটনার মূল সূত্রপাত হয় গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন। সেদিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপি সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই সাজার পেছনে একই গ্রামের বিএনপি নেতা ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য শিশু মিয়া জড়িত বলে জিয়াউর রহমান সন্দেহ করতে থাকেন।
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েই জিয়াউর রহমান প্রতিশোধ নিতে শিশু মিয়াকে মারধর করেন এবং তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগে একবার সংঘর্ষের পর আজ (২৪ মার্চ) সকালে পুনরায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বড় গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালায়।
সংঘর্ষ চলাকালীন মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত এমপি এম এ হান্নানের অনুসারী বিএনপি নেতা রহিম তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কে এম কামরুজ্জামান মামুনের অনুসারী কাশেম মিয়ার লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।
নিহত হাবিবউল্লাহ (৪০) গোয়ালনগর গ্রামের স্কুলপাড়া এলাকার মসজিদের ইমাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুনের সমর্থক ছিলেন।
অপরিদকে নিহত আক্তার মিয়া বিএনপি নেতা রহিম তালুকদারের সমর্থক ছিলেন।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পুরো সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিএনপির অভ্যন্তরীণ ও গোষ্ঠীগত বিরোধের জের ধরেই এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
