আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ লক্ষ্য করে ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। বুধবার (২৫ মার্চ) হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, ইরানের ছোড়া প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রই সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘পেস টিভি’র বরাতে জানা গেছে, দেশটির সেনাবাহিনী উপকূলীয় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে এই হামলা চালিয়েছে। প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান উপকূল থেকে সমুদ্রগামী একাধিক শক্তিশালী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হচ্ছে। বর্তমানে রণতরিটি আরব সাগরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র সমর্থনে অবস্থান করছে।
ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি হুশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, মার্কিন এই যুদ্ধজাহাজটি তাদের সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। প্রয়োজনে আবারও হামলা চালানো হবে। এছাড়া ইরান দাবি করেছে যে, তারা কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই ভয়াবহ উত্তেজনা এমন এক সময়ে তুঙ্গে উঠল যখন ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের কাছে ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের ওপর মার্কিন বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। এই সংঘর্ষে ইরানের তৎকালীন সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই প্রতিশোধ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে তেহরান।
খামেনি হত্যার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো রয়েছে, সেখানে ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ ও হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এই সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে।
