রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ফেরিতে উঠতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর বাসটি দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এখন পর্যন্ত বাসটি থেকে নারী ও শিশুসহ মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও, বাকিরা বাসের ভেতরেই আটকা পড়ে পানির নিচে তলিয়ে যান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সম্মিলিতভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
উদ্ধারকৃত ১৬টি মরদেহের মধ্যে ১০ জন নারী, ৪ জন পুরুষ এবং ২ জন শিশু রয়েছে। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আটজনের মরদেহ দুর্ঘটনাস্থলেই পাওয়া গেছে এবং দুজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকিদের মরদেহ বাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আর কেউ আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত শেষে আগামী ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
