ঈদ মানেই আনন্দ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উৎসব। প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি মানুষ এই সময় বাড়ি ফেরেন। তবে এবারের ঈদযাত্রা আনন্দের বদলে রূপ নিয়েছে শোকের ঘটনায়। বেসরকারি হিসাবে, ঈদের আগে-পরে ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ৯ শতাধিক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়ক, রেল ও নৌপথে সমন্বয়ের অভাব এবং দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটছে। অনেকেই এসব মৃত্যুকে ‘কাঠামোগত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। শুধু ছুটি বাড়িয়ে নয়, কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাই দুর্ঘটনা কমানোর মূল উপায় বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। বড় বড় দুর্ঘটনাও বেড়েছে—ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া, বাস-ট্রেন সংঘর্ষ, লঞ্চ দুর্ঘটনা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক পরিবারের সদস্যদের মৃত্যু এ চিত্রকে আরও ভয়াবহ করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যানবাহনের স্বল্পতা, অতিরিক্ত যাত্রী চাপ, ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং ভাড়া নৈরাজ্য—এসব কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। ঢাকাকেন্দ্রিক কর্মসংস্থানের কারণে অল্প সময়ে বিপুল মানুষের যাতায়াত এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা, যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় প্রতি বছরই ঈদযাত্রা শোকের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
