সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পর আবারও আলোচনায় এসেছে এক-এগারোর কুশীলবরা। তাদের গ্রেফতারের পর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে; কেউ আত্মগোপনে গেছেন, কেউ দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়, যা ‘এক-এগারোর সরকার’ নামে পরিচিত। সে সময় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ, আর প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। পরবর্তী সময়ে অনেকেই দেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ফখরুদ্দীন আহমদ ও মইন ইউ আহমেদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। এছাড়া কয়েকজন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা দুবাই, কানাডা ও অন্যান্য দেশে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ দেশে অবস্থান করলেও রয়েছেন নজরদারির মধ্যে।
অভিযোগ রয়েছে, এক-এগারোর সময় দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধি অভিযানের নামে অনেক রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে হয়রানি, নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে এখনো সুনির্দিষ্ট বিচার হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সে সময়ের ঘটনায় কেউ আইন ভঙ্গ করে থাকলে এখনো তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার সম্ভব। কারণ ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সময়সীমা প্রযোজ্য নয়। এ জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, তদন্ত এবং সরকারের উদ্যোগ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক-এগারোর সময়ের ঘটনাগুলো তদন্তে একটি কমিশন গঠন করা হলে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ভুক্তভোগীদের বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে।
সার্বিকভাবে, দীর্ঘদিন পর এক-এগারোর কুশীলবদের নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।
