প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি ও বিতর্কিত পদক্ষেপের প্রতিবাদে আজ ২৮ মার্চ শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ‘নো কিংস’ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দেশটির ৩ হাজার ১০০টিরও বেশি স্থানে পরিকল্পিত এই কর্মসূচিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, আজ কয়েক মিলিয়ন মার্কিন নাগরিক রাজপথে নেমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করবেন। ট্রাম্পের শাসনপদ্ধতিকে গণতান্ত্রিক নয় বরং রাজতান্ত্রিক মনে করায় এই আন্দোলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘নো কিংস’।
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এবারের কর্মসূচির সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের জুন ও অক্টোবরে অনুষ্ঠিত দুই দফার বিক্ষোভে যথাক্রমে ৫০ লাখ ও ৭০ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছিল। ইনডিভিজিবল, পাবলিক সিটিজেন, হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন এবং উইমেন’স মার্চের মতো বড় বড় সংগঠন এই বিশাল জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কঠোর অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার হরণ এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থান থেকে সাধারণ মানুষ এই আন্দোলনে শামিল হচ্ছেন।
এবারের আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মিনেসোটার টুইন সিটিস বা সেন্ট পল এলাকা। সেখানে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহতের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সেন্ট পলের স্টেট ক্যাপিটলে আয়োজিত প্রধান সমাবেশে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, অভিনেত্রী জেন ফন্ডা এবং কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিনসহ অনেক তারকার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। শুধু এই একটি এলাকাতেই দেড় লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভের এই বিশাল প্রস্তুতিকে বিদ্রূপ করে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের এই প্রতিবাদ নিয়ে কোনো আগ্রহ নেই। তবে বিক্ষোভকারীরা এই বক্তব্য নাকচ করে দিয়ে বলছেন, তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। আয়োজকদের মতে, তাদের লক্ষ্য কেবল একদিনের রেকর্ড গড়া নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই চালিয়ে যাওয়া। মন্টানার মতো রিপাবলিকান ঘাঁটিগুলোতেও প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় একে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক ঐতিহাসিক জনরোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
