জুলাই আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ সাংবিধানিকভাবে বৈধ নয় বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাথে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং আইনি ভিত্তি পোক্ত করার জন্য যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সেগুলো বিদ্যমান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। মন্ত্রীর মতে, এই প্রক্রিয়াগুলো আইনসম্মত উপায়ে সম্পন্ন হয়নি।
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জুলাই আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ অবিকল আইনের মতো মনে হলেও আসলে এগুলো সাংবিধানিকভাবে বৈধ কোনো আইন নয়। তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, এই দুটি তথাকথিত পদক্ষেপ সংবিধান সংশোধনের শামিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই, এই ক্ষমতা একচ্ছত্রভাবে কেবল জাতীয় সংসদের ওপর ন্যস্ত।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, কোনো আদেশ তখনই আইনের মর্যাদা পায় যখন তা কোনো নির্দিষ্ট আইনের ভিত্তিতে বা ‘ব্যাকিংয়ে’ জারি করা হয়। কিন্তু জুলাই সনদ বা সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আইনি রেফারেন্স ছিল না। ১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের আগে রাষ্ট্রপতির কিছু বিশেষ আদেশ (পিও) কার্যকর থাকলেও বর্তমানে সংবিধান বলবৎ থাকা অবস্থায় এ ধরনের আদেশ বৈধ ভাবার কোনো কারণ নেই।
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, তারা এই বিষয়ে ভ্রান্ত ব্যাখ্যা দিচ্ছে। বিদ্যমান সংবিধান বহাল থাকা অবস্থায় কোনো আদেশ জারি করে সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। ফলে এই গণভোট অধ্যাদেশ বা জুলাই সনদকে আইনের মর্যাদা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
