পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, কেবল সংবিধানের দোহাই দিয়ে অতীতে কাউকেই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সোমবার জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, যদি সংবিধান কার্যকর থাকত, তবে খালেদা জিয়ার বাসার সামনে বালুর ট্রাক রাখা কিংবা বিরোধী নেতাদের ওপর জেল-জুলুম ঠেকানো যেত। তিনি নিজের উদাহরণ টেনে বলেন, সাড়ে সাত বছর কারাবরণ এবং একাধিকবার গুম ও রি-অ্যারেস্ট হওয়ার সময় সংবিধান তাকে সুরক্ষা দিতে পারেনি।
শফিকুল ইসলাম মাসুদ দাবি করেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করেছিল কারণ তারা আন্দোলন দমনে বাধা ছিল। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে জানিয়েছিল যে বড় নেতারা হুমকি নন, বরং জামায়াত-শিবিরই তাদের জন্য মূল দুশ্চিন্তার কারণ। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, তৎকালীন সরকার ভেবেছিল আমাদের নিষিদ্ধ করলেই আন্দোলন থেমে যাবে, কিন্তু জনতা সেই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছে।
গণভোটের ন্যায্যতা নিয়ে চলমান বিতর্কের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যারা গণভোটের বিরোধিতা করছেন, তারা প্রকারান্তরে আয়নাঘর এবং বিগত স্বৈরাচারী ব্যবস্থাকেই সমর্থন করছেন। তার মতে, গণভোটে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা মানে জনগণকে ধিক্কার জানানো। জুলাই সনদ এবং গণভোটের আকাঙ্ক্ষাকে অবজ্ঞা করলে জাতিকে আবারও সেই ১৭ বছরের নিপীড়ন, গুম ও খুনের অন্ধকার যুগে ফিরে যেতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যদি জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে জাতির সাথে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হয়, তবে তার জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। জনগণের রক্তস্নাত বিপ্লবের ফসল রক্ষা করতে হলে সাংবিধানিক দোহাই না পেড়ে গণরায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।
