মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাঠদান পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, সপ্তাহের ৩ দিন অনলাইনে এবং বাকি ৩ দিন সরাসরি সশরীরে ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মূলত জ্বালানি সাশ্রয় এবং যাতায়াত খরচ কমানোর লক্ষ্যেই এই বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে সরকার।
এই সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করার জন্য আগামী বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। ওই বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলে দ্রুতই সারাদেশের স্কুল, কলেজ ও মাদরাসাগুলোতে এই নতুন সময়সূচি কার্যকর করার নির্দেশনা জারি করা হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং একই সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পদ সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে যাতায়াতজনিত জ্বালানি খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা। তবে প্রাস্তিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর এই বিষয়ে বিস্তারিত পরিপত্র জারি করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে কোন কোন দিন অনলাইন ক্লাস হবে এবং কোন দিনগুলোতে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই ‘ব্লেন্ডিং’ বা সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতি অব্যাহত থাকতে পারে।
