বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক ভূমিকা এবং তার নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে অজ্ঞাত স্থান থেকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে হঠাৎ তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্ন রয়েছে। সে সময় তিনি গুম হয়েছিলেন বলে দাবি করা হলেও, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিষয়টিকে ‘গুম নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন এবং দাবি করেছিলেন যে তিনি ট্রাভেল পাস নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন।
বিগত দেড় দশকে দেশের রাজনীতিতে তার অবদান নিয়ে সমালোচকরা প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে থাকার পর সম্প্রতি দেশে ফিরে এস আলমের গাড়িতে চড়ে সংবর্ধনা গ্রহণ করা এবং তার বিলাসবহুল জীবনযাপন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেক আন্দোলনকারীর মতে, জুলাই বিপ্লব বা দীর্ঘদিনের রাজপথের সংগ্রামে তার দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না, অথচ এখন তিনি সংবিধান ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে নসিহত দিচ্ছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদের গুম হওয়ার সত্যতা নিয়েও জনমনে সংশয় রয়েছে। সমালোচকদের মতে, একজন সাংবিধানিকভাবে নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই, যিনি এই ঘটনাকে সাজানো বলে উল্লেখ করেছিলেন। এছাড়া ভারতে থাকাকালীন তার অবস্থান এবং পরবর্তী কার্যক্রম অনেকের কাছেই রহস্যজনক মনে হয়েছে। বর্তমানে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে তার বিভিন্ন মন্তব্যকে অনেকে ‘মকারি’ বা উপহাস হিসেবে দেখছেন, যা সাধারণ আন্দোলনকারীদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে।
সাংবাদিক ও কলামিস্ট আনিস আলমগীর এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন যে, সালাহউদ্দিন আহমদের মতো নেতাদের অতীত এবং বর্তমান কর্মকাণ্ড তাদের রাজনৈতিক সততাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে হঠাৎ দেশে ফিরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তা নিয়ে রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে গ্রহণ করছে না। এই ধরনের দ্বিমুখী অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে তার গ্রহণযোগ্যতা কমিয়ে দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
