বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রথম এবং প্রধান দফাকেই বর্তমানে অস্বীকার করছে বলে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষমতায় আসার আগে দলটি রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের যে ৩১ দফা ঘোষণা করেছিল, এখন তা বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সংবিধান সংস্কারের বদলে সংশোধনের পথে হাঁটা এবং গণভোট বা রেফারেন্ডাম ব্যবস্থা বাতিলের পরিকল্পনাকে দলটির রাজনৈতিক ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এই প্রসঙ্গে স্পষ্ট করেছেন যে, তারা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। অথচ বিএনপি নির্বাচনের আগে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন সেই অবস্থান থেকে সরে আসছে। সমালোচকদের মতে, বিএনপির এই ৩১ দফা মূলত একটি অন্তহীন প্রতারণার দলিলে পরিণত হয়েছে, যা তারা নিজেরাই এখন মানতে চাইছে না।
দলটির ঘোষিত ইশতেহারে রেইনবো নেশন গঠন, জাতীয় সমন্বয় কমিশন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো ছিল প্রধান। এছাড়া বিচার বিভাগের সংস্কারের জন্য জুডিশিয়াল কমিশন গঠন এবং সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল পুনঃপ্রবর্তনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে বিএনপির রহস্যজনক নীরবতা এবং অবস্থান পরিবর্তন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন গঠনের যে প্রতিশ্রুতি বিএনপি দিয়েছিল, তা এখন কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্কারগুলো নিয়ে দলটির বর্তমান টালবাহানা তাদের রাজনৈতিক সততাকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে জনগণের কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা কমছে বলে মনে করা হচ্ছে।
