বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন গণমাধ্যমগুলো ব্যবহার করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর পেছনে বিএনপির শীর্ষ নেতা তারেক রহমান ঘনিষ্ঠদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, ইউনূস সরকার কর্তৃক জনস্বার্থে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশ বাতিলের প্রেক্ষাপট তৈরি এবং বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থার প্রতিবাদেই এই সংঘবদ্ধ প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। মূলত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বসুন্ধরা গ্রুপের মিডিয়া হাউজ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেড’-এর গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বর্তমানে তারেক রহমান ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। তারেক রহমানের সাবেক পিএস গিয়াসউদ্দিন রিমন বর্তমানে এই মিডিয়া গ্রুপের ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তাকে বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান তাসভীরের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছে। এই ঘনিষ্ঠতা গণমাধ্যমগুলোর নীতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলছে বলে আলোচনা রয়েছে।
এছাড়া বিএনপির মিডিয়া সেলের সদ্য সাবেক সদস্য কাদের গণি চৌধুরীও বর্তমানে ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের ডিএমডি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। তার এই নিয়োগ মিডিয়া হাউজগুলোর ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। এই গ্রুপের অধীনেই কালের কণ্ঠসহ বসুন্ধরা গ্রুপের সব কটি মিডিয়া হাউজ পরিচালিত হয়, যা ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত তথ্য ছড়ানোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে, কালের কণ্ঠের বর্তমান সম্পাদক হাসান হাফিজ একজন চিহ্নিত বিএনপিপন্থী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার গ্রহণ করেছেন। এই মিডিয়া কাঠামোর শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপের বিরোধিতাই ড. ইউনূসকে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
