দেশে ডিজেলের কোনো সংকট নেই জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, অকটেন নিয়ে যে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে তা মূলত মোটরসাইকেল চালকদের তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট। শুক্রবার সকালে টাঙ্গাইলের প্রধান কাঁচাবাজার ‘পার্ক বাজার’ পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। তার মতে, আতঙ্কে চালকরা দিনে কয়েকবার তেল নিয়ে বাড়িতে মজুত করার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে কিছু অসাধু ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তেল মজুত রেখে ‘তেল নেই’ বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের অপতৎপরতা ছাড়া সারাদেশে জ্বালানি তেলের কোনো বাস্তব সমস্যা নেই।
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বর্তমানে দেশে আগামী তিন মাসের তেলের মজুত রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বড় বড় মার্কেট সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখা এবং অফিসের সময়সীমা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের তেলের বরাদ্দ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে আগামী রোববার বা সোমবারের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও দেশে ভর্তুকি দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে, যার জন্য বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রশংসা পাওয়া উচিত। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে পরিকল্পিত সাশ্রয়ের মাধ্যমে যেকোনো ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলা করা এবং জনজীবনকে স্বাভাবিক রাখা।
