ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে বলে দাবি করেছে তিনটি মার্কিন সূত্র, যা ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের আগের তথ্যের সঙ্গেও মিলে যাচ্ছে। মেহর নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, ওই বিমানে থাকা পাইলটদের খুঁজতে একটি মার্কিন উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার ঘটনাস্থলে গেলে সেটিকেও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে এই জোড়া হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ বা হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
সিএনএনের এক বিশ্লেষণে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত ধ্বংসাবশেষের ছবিগুলো পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে, বিধ্বস্ত বিমানটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘এফ-১৫’ মডেলের যুদ্ধবিমানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যদিও আগে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এটি ‘এফ-৩৫’ মডেলের হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল, তবে সিএনএনের বর্তমান পর্যবেক্ষণ ইরান ইন্টারন্যাশনালের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিমানে থাকা দুই মার্কিন পাইলট ইরানি ভূখণ্ডে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোর মতে, ইরানি ভূখণ্ডে মার্কিন পাইলটদের নিখোঁজ হওয়া বা সম্ভাব্য আটক হওয়ার ঘটনা চলমান সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারটিও হামলার শিকার হওয়ায় ওই এলাকায় মার্কিন উদ্ধার তৎপরতা চালানো এখন আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। স্বাধীনভাবে সব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা না গেলেও বিধ্বস্ত বিমানের ছবি ও গোয়েন্দা সূত্রগুলো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন পাইলটদের ভাগ্যে কী ঘটেছে এবং ওয়াশিংটন এই হামলার জবাবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই আন্তর্জাতিক মহলের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
