বগুড়া শহরের ব্যস্ততম ফতেহ আলী বাজার থেকে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ী নেতা আলাল শেখ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আজ শুক্রবার ভোরে ঢাকার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। নিহত আলাল শেখ শহরের চকসূত্রাপুর কসাইপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী ছিলেন। গত ২৮ মার্চ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে তাকে অপহরণ করে বর্বরোচিত নির্যাতন চালানো হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, যুবদল নেতা শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল যুবক আলাল শেখকে টেনেহিঁচড়ে বাজারের বাইরে নিয়ে যায়। পরে মোটরসাইকেলে করে তাকে মালগ্রাম ডাবতলা এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়। একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা সিদ্দিকুর রহমান বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় ২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলার প্রধান আসামি জেলা যুবদলের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল ইসলামকে ইতোমধ্যে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার দায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান।
বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর অভিযানে নেমে এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। পুলিশ জানায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। মামলাটিকে এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকি আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
