গত মার্চ মাসে বিএনপি-সম্পর্কিত অপরাধের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে বেসরকারি ওয়েবসাইট “বিএনপিনামা”। সেখানে দাবি করা হয়েছে, শুধু মার্চ মাসেই বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় ২২ জন নিহত হয়েছে এবং ৬ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। একই সঙ্গে মোট ২৩৬টি অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী শাসনের পরে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান দেশজুড়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা করেছিল।তবে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নানা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা বিএনপি, ক্ষমতায় ওঠার আগেই দেশকে জর্জরিত করেছে নানাবিধ গুরুতর অপরাধের ঘটনায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিএনপি নেতা ও কর্মীদের হামলায় অন্তত ২৬৪ জন নিহত এবং ৭৪ জনের বেশি ধর্ষণসহ নানাবিধ অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় অন্তত ২৬৪ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ৭৪ জনের বেশি নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব অপরাধের মধ্যে খুন-২২টি, ধর্ষন ৬ টি, টেন্ডারবাজির ঘটনা ১টি, চাঁদাবাজি ২৮টি, গুজব ও মিথ্যাচার ৩টি, হামলা ও সংঘর্ষ ৮০টি এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা ২টি রয়েছে। এছাড়া লুটপাটের ঘটনা ৮টি, দুর্নীতি ১০টি, দখল ১০টি এবং হুমকির ঘটনা ৪টি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়াও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ ১৩টি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি ৭টি এবং অবৈধ অস্ত্র সংশ্লিষ্ট ঘটনা ১টি নথিভুক্ত হয়েছে। চুরি ও ডাকাতির ঘটনা রয়েছে ১৮টি, বিবিধ অপরাধ ১২টি এবং শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের ঘটনা ৬টি বলে প্রকাশিত তথ্যে জানানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ও পরে সংঘটিত এসব হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং অন্যান্য অপরাধের ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর বিচার প্রক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধীদের বিচারের আওতায় না আনা এবং কার্যকর পদক্ষেপের অভাব একটি দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে এবং অপরাধীদের মধ্যে বেপরোয়া আচরণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করছেন, ক্ষমতায় আসার পরও সরকার যদি একটি স্বচ্ছ ও কার্যকর বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জনগণের আস্থা আরও কমে যাবে। পাশাপাশি গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনমনে হতাশা বাড়ছে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ায় এই অসন্তোষের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করছেন, ক্ষমতায় আসার আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার না হওয়ায় জনগণের একাংশ সরাসরি সরকারকেই দায়ী করছেন।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক অসন্তোষ বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
