ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) এবং মার্কিন বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ৩ এপ্রিল শুক্রবার আইআরজিসি-র আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার হামলায় ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়েছে। আইআরজিসি-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নিখুঁত নিশানায় মার্কিন ‘এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল’ এবং ‘এ-১০ ওয়ার্টহগ’ যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।
আইআরজিসি-র আধাসামরিক সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ জানিয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরান সীমান্তে মার্কিন এই যুদ্ধবিমানগুলো অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের প্রতিরক্ষা বাহিনী সরাসরি আঘাত হানে। এর মধ্যে ‘এফ-১৫ই’ বিমানটি ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরেই বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন বিমান হারানোর খবরটি স্বীকার করেছে এবং নিখোঁজ পাইলটদের উদ্ধারে বর্তমানে ইরানি ভূখণ্ডের ভেতরেই বিপজ্জনক ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযান চালাচ্ছে।
আইআরজিসি-র এই হামলার পর মার্কিন বিমান বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১৭টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ও জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (KC-135) আইআরজিসি বা তাদের মিত্রদের হামলার শিকার হয়েছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এই ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় সামরিক বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছেন। আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের আকাশসীমায় যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশের জবাব এভাবেই দেওয়া হবে।
বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালি এলাকায় আইআরজিসি-র দ্রুতগামী নৌযান ও ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। পেন্টাগনের তথ্যমতে, এই সংঘাত শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৬৫ জন মার্কিন সেনা আহত এবং ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আইআরজিসি-র এই ধারাবাহিক হামলা এবং মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার ঘটনা পুরো অঞ্চলের সামরিক ভারসাম্য ও রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন ও জটিল মোড়ে দাঁড় করিয়েছে।
