আগামী বছর থেকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কঠোর শৃঙ্খলা আনতে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষায় শূন্য পাসের হার থাকবে, সেসব প্রতিষ্ঠানের এমপিও সুবিধা বাতিল করা হবে।
শনিবার কুমিল্লা নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভাটি আয়োজন করা হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে, যেখানে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে যেসব প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার দেখা যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে এমপিও বাতিলের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে এটিকে সতর্কবার্তা হিসেবে ধরা হবে এবং আগামী বছর থেকে এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পরীক্ষা ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক করার কথাও জানান তিনি। যেসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সমস্যা রয়েছে, তাদের সহায়তায় সরকার এগিয়ে আসবে বলেও আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে যেন রেকর্ডিং বন্ধ না হয়, সে জন্য আইপিএস ব্যবস্থাও রাখতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের বিষয়ে তিনি জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। কোনো পরীক্ষায় নকল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবকে দায়ী করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এতে করে দায়িত্বশীলতা বাড়বে এবং পরীক্ষার পরিবেশ আরও সুষ্ঠু হবে বলে মনে করেন তিনি।
কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভরতা কমানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তবে এ ক্ষেত্রে সরাসরি আইন প্রয়োগের পরিবর্তে শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত উন্নয়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে কোচিং নির্ভরতা কমিয়ে আনার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
