আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছে শহীদ পরিবারগুলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। বক্তারা অভিযোগ করেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনীহা ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে জাদুঘরটি চালু করতে বিলম্ব করা হচ্ছে, যা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
এই জাদুঘরটি কেবল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, বরং গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিভিন্ন কলঙ্কিত অধ্যায় যেমন—বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের গণহত্যার স্মৃতি নিয়ে নির্মিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জুলাই গণহত্যা মামলার আসামি ও যুবলীগ-সম্পৃক্ত সচিব আলাউদ্দিন পরিকল্পিতভাবে আমলাতান্ত্রিক দোহাই দিয়ে এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছেন।
শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংস্কৃতিক ধারা তৈরি হয়েছিল, সেটিকে ধ্বংস করে পুনরায় পুরনো দলীয় সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাদুঘরটি উন্মুক্ত না করা হলে শহীদ পরিবারগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর ও সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বক্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাদুঘরটি চালু না হয়, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকে বহন করতে হবে। তারা অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে জুলাইয়ের বীরত্বগাথা ও গত দেড় দশকের জুলুমের ইতিহাস সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান।
