গ্রীষ্ম মৌসুমে সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু চলতি বছর চাহিদা বৃদ্ধির আগেই দেশে লোডশেডিং শুরু হয়েছে। জ্বালানি সংকট এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, সামনে এই সংকট আরও বাড়তে পারে।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টায় ১৩ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ১২ হাজার ৮৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এতে ৬০৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সকাল থেকেই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের খবর পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রায় ৪,৫০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন একদিনের ব্যবধানে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ৪ এপ্রিল যেখানে উৎপাদন ছিল ২,৮০৩ মেগাওয়াট, তা কমে দাঁড়িয়েছে ১,৬০০ মেগাওয়াটে।
অন্যদিকে, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪,০০০ মেগাওয়াট এবং ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুৎ (আদানি, ভেড়ামারা ও ত্রিপুরা) মিলিয়ে গড়ে ১,৮০০ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গ্যাস সরবরাহের চাপ সামলাতে সার কারখানাগুলো আংশিক বন্ধ রাখতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বকেয়া পরিশোধের দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতে মোট বকেয়া প্রায় ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি তেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ২০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পিডিবি।
কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুতের চাহিদা ইতোমধ্যে ১৫ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে এবং খুব শিগগিরই তা ১৮ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী,
২ এপ্রিল সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল ১৫,৪০০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ছিল ১৪,৮৬৪ মেগাওয়াট (লোডশেডিং ৫১২ মেগাওয়াট)
৪ এপ্রিল চাহিদা ছিল ১৫,১০০ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩,৯৬৯ মেগাওয়াট (লোডশেডিং ১,০৭৫ মেগাওয়াট)
দোকান ও বিপণিবিতানের সময়সীমা পরিবর্তন
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকান ও শপিংমল বন্ধের সময় পরিবর্তন করেছে সরকার। এখন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।
এর আগে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, ব্যবসায়ীদের অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে জরুরি সেবাসমূহ এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে।
