ইসরায়েলের হাইফা শহরে ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুইজন নিহত এবং আরও দুইজন নিখোঁজ হয়েছেন। রবিবার রাতে চালানো চার দফা হামলার অংশ হিসেবে একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালিয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়, তবে বাকি দুইজনের সন্ধানে এখনও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভারী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহুতল ভবনটির অর্ধেক অংশ পুরোপুরি ধসে পড়েছে। ভবনের অবশিষ্ট অংশটিও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। কৌশলগত গুরুত্বের কারণে হাইফা শহরটি প্রায়ই ইরান ও হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। উদ্ধার অভিযান চলাকালেও নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ওই এলাকায় কয়েক দফা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
সোমবার ভোরেও ইরান থেকে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হলে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু খোলা স্থানে গিয়ে পড়েছে। হাইফার পাশাপাশি রবিবার রাতের অন্য একটি হামলা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বেয়ারশেবা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও রাসায়নিক পার্কে আঘাত হেনেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে হাইফা ও বেয়ারশেবার মতো শিল্পাঞ্চলগুলোর রাসায়নিক কারখানা ও পেট্রোকেমিক্যাল প্ল্যান্টগুলো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এসব অবকাঠামো এখন ইরান-ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
