ইরানে মার্কিন জিম্মি উদ্ধারে গিয়ে ১৯৮০ সালে তাবাস মরুভূমিতে পরিচালিত ‘অপারেশন ইগল ক্ল’ নামক এক ব্যর্থ সামরিক অভিযানের স্মৃতি আজও বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানের মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জন কূটনীতিক ও নাগরিক জিম্মি হওয়ার পর তাদের মুক্ত করতে এই দুঃসাহসিক মিশন হাতে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে প্রচণ্ড মরু ঝড় ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অভিযানটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে।
অভিযান পরিচালনার জন্য ইউএসএস নিমিজ রণতরি থেকে ৮টি আরএইচ-৫৩ডি (RH-53D) হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে। কিন্তু মাঝপথে তারা ‘হাবুব’ বা ভয়াবহ মরু ঝড়ের কবলে পড়ে। এতে দৃশ্যমানতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসে এবং হেলিকপ্টারগুলোর যন্ত্রাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মিশনটি মাঝপথেই বাতিল করে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় মার্কিন কমান্ড।
ফিরে যাওয়ার সময় জ্বালানি নেওয়ার প্রক্রিয়ায় একটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে একটি ইসি-১৩০ (EC-130) পরিবহন বিমানের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। বিমানে থাকা অতিরিক্ত জ্বালানির কারণে মুহূর্তেই প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৫ জন বিমান বাহিনীর সদস্য এবং ৩ জন মেরিন সেনাসহ মোট ৮ জন মার্কিন সৈন্য নিহত হন এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
এই শোচনীয় পরাজয়ের পর মার্কিন সেনারা ৫টি হেলিকপ্টার মরুভূমিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলেই সি-১৩০ বিমানে করে দ্রুত ইরান ত্যাগ করে। এই ব্যর্থতা তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনের জন্য এক বড় রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিকূল আবহাওয়ায় ইরানের কৌশলগত অবস্থানের কারণেই আধুনিক সাজসজ্জা থাকা সত্ত্বেও পঙ্গু হয়ে পড়েছিল সে সময়ের বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী এই বাহিনী।
