ভোলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা এ নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দিয়েছেন।
রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসা থেকে ভোলা পৌরসভার নারী কর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে উপস্থাপন করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক তার পোস্টে লিখেছেন, ভোলার জামায়াতকর্মী বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা পুরনো ফ্যাসিবাদী নিপীড়নেরই অনুকরণ। তিন বছরের এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুর মাকে এভাবে বিনা অপরাধে নিজ বাসা থেকে মধ্যরাতে তুলে নেওয়া অমানবিক এবং ভিন্নমত দমনের বহিঃপ্রকাশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা একসময় নিজেরাই নিপীড়নের শিকার ছিলেন, তাদের শাসনামলে এমন গ্রেপ্তার কাম্য নয়। অবিলম্বে বিবি সাওদার মুক্তি ও রাজনৈতিক হয়রানি বন্ধের দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আইনজীবী এবং ‘থ্রি এস চেম্বার্স’-এর প্রধান এ এস এম শাহরিয়ার কবির সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, একটি লেখনীর কারণেই ক্ষমতার আসন কেঁপে উঠেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের নেতা আব্দুল কাদের প্রশ্ন তুলে বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের পথ অনুসরণ করছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। একটি সমালোচনামূলক পোস্ট শেয়ারের কারণে একজন নারীকে গ্রেপ্তার করা হলে তা কী বার্তা দেয়—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, দেশের বাস্তবচিত্র তুলে ধরা নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অভিযোগে গ্রেপ্তার ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণের নামান্তর বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার পোস্টে দাবি করেন, একটি পোস্টের কারণেই ওই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার শেয়ার করা পোস্টের পর সংশ্লিষ্ট আইডিও উধাও হয়ে গেছে। তিনি নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন শাখার উপপরিদর্শক জুয়েল হোসেন খানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিবি সাওদা তার ফেসবুক আইডি থেকে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন পোস্ট করেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তাদের নির্দেশেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে এবং কারিগরি সমস্যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বিশ্লেষণ সম্ভব হয়নি। তাকে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী সন্দেহভাজন হিসেবে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানায়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াযযম হোসাইন হেলাল অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
