ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দলীয় গণ্ডির বাইরে থেকে নির্বাচন করার ফলেই তিনি বুঝতে পেরেছেন দেশের সাধারণ মানুষের ভালোবাসা কত গভীর। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত লাখো মানুষের দোয়া ও সমর্থন তাকে অভিভূত করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের শুরুতেই রুমিন ফারহানা মহান আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেন এবং তার নির্বাচনী লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, বহিষ্কারের ভয় ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে যেসব নেতাকর্মী তার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের প্রতি তিনি চিরঋণী। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এতে করে তিনি মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার এক অনন্য অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
রুমিন ফারহানা তার ভাষণে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। এমনকি সংসদে তাকে মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণই পাঠ করতে হয়। বিএনপির ‘ভিশন ২০৩০’ ও ‘৩১ দফা’য় এই ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রস্তাব থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন না দেখে তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, দেশনেত্রী তাকে পরম স্নেহে রাজনীতিতে এনেছিলেন। বর্তমান সংসদে খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে রুমিন ফারহানার বক্তব্য সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
