ইরান যুদ্ধের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে, যা বিশ্লেষকদের মতে চীনের সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের এক সতর্কবার্তা। মাত্র কয়েক সপ্তাহের এই সীমিত অভিযানেই ওয়াশিংটন ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির মতো রূঢ় বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।
গত ১৬ দিনে ইরান মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ ব্যবহারে বাধ্য করেছে এবং উন্নত ড্রোন পাঠিয়ে লক্ষ্যভেদে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের মতো ছোট শক্তির সাথেই যদি আমেরিকার এত বেগ পেতে হয়, তবে চীনের বিশাল ও এআই-চালিত উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের সামনে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ধসে পড়তে পারে।
যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনীর সীমাবদ্ধতাও এখন স্পষ্ট। ইরানি হামলার আশঙ্কায় রণতরীগুলো সতর্ক অবস্থানে থাকতে বাধ্য হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে মাটিতেই একটি মার্কিন বিমান ধ্বংস হয়েছে। চীনের শক্তিশালী সিস্টেমের মুখে আমেরিকার বিমানগুলো উড্ডয়নের আগেই ধ্বংস হওয়ার প্রবল ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া। ইরানে ব্যবহৃত শত শত টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র মূলত তাইওয়ান পরিস্থিতির জন্য সংরক্ষিত ছিল, যা এখন দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অনেক খনিজ সম্পদ চীনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সাপ্লাই চেইন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে।
যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ব্যস্ত, তখন চীন প্রতিটি সামরিক অপারেশন পর্যবেক্ষণ করে নিজেদের কৌশল আরও উন্নত করছে। বেইদু সিস্টেম ও আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তির মাধ্যমে চীন রিয়েল-টাইমে মার্কিন কৌশলগুলো বুঝে নিয়ে পাল্টা প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরান যুদ্ধ মূলত মার্কিন সামরিক কাঠামোর ফাটলগুলো ধরিয়ে দিয়েছে, যা চীনের সাথে বৃহত্তর সংঘাতে বড় পরাজয়ের কারণ হতে পারে।
