আগামী দুই দশকের জন্য দেশের পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজাতে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কৌশলগত রূপরেখার কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উঠে আসে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পর্যটন-বান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ট্যুর গাইডদের প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া রন্ধনশৈলী, কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম এবং পরিবেশবান্ধব ইকো-ট্যুরিজমের বিকাশে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় পর্যটন মহাপরিকল্পনার খসড়া অনুযায়ী, দেশের স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং উপকূলীয় এলাকায় পর্যটন সুবিধা বাড়ানো হবে। একইসঙ্গে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয়টিও এই পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বর্তমানে ৩০টির বেশি জেলায় আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য থাকলেও পর্যায়ক্রমে সব জেলাকে এর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, নাগরিকের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যক্তি নয় বরং পরিবারকে উন্নয়নের মূল একক হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। গত ১০ মার্চ থেকে দেশের ১৩টি জেলা ও ৩টি সিটি কর্পোরেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে। আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
নারী শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে। বিশেষ করে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলাগুলোতে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যাতে শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়।
