শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সংশ্লিষ্ট দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ইসি সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “ভোট বর্জনের বিষয়টি আমি প্রায় পৌনে ৪টার দিকে জেনেছি। সারাদিন ভোট চলার পর শেষ মুহূর্তে জাল ভোটের অভিযোগ তুলে বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এটি তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এ বিষয়ে মন্তব্য নেই।
তিনি আরও বলেন, “আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং দ্রুত একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছি। পাশাপাশি ফলাফল প্রকাশেও যেন দেরি না হয়, সে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এর আগে দুপুরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনে ভোট কারচুপি, জাল ভোট প্রদান, এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং সকালেই ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে সকালেই প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা ফলাফল শিটে স্বাক্ষর নিয়েছেন, পরে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে এবং তাদের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে।
দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৩টি কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নারী ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে, দলীয় কর্মীদের মারধর করা হয়েছে এবং প্রশাসন কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যেসব কেন্দ্রে গুরুতর অনিয়ম হয়েছে, সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে পুনরায় ভোট আয়োজন করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ বিষয়ে ইসি সচিব জানান, অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
