জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, চলতি বছর থেকেই ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ দেশে আসা শুরু হবে। ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে আনা এসব কোচ জুন ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৭ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন সদস্যের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টায় অধিবেশন শুরু হয়। মন্ত্রী জানান, কোচগুলো হাতে পাওয়ার পর নতুন ট্রেন চালুর বিষয়ে রুট নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বর্তমান রেলপথের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে মোট ৩ হাজার ৪২৮ দশমিক ৯ কিলোমিটার রেললাইন রয়েছে। এর মধ্যে মিটারগেজ ১ হাজার ৫৯১ দশমিক ৪৩ কিলোমিটার, ব্রডগেজ ১ হাজার ৬৬ দশমিক ৬০ কিলোমিটার এবং ডুয়ালগেজ ৭৭০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার। পাশাপাশি নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ লাইন সম্প্রসারণের কাজ চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ১৫টি আন্তনগর ট্রেন চলাচল করছে। নতুন কোচ যুক্ত হলে উত্তরবঙ্গের কিছু জেলায় ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হবে। যাত্রীসেবা উন্নয়ন ও রেলওয়ের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ভবিষ্যতে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন খাতের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, শিগগিরই এসি বাস ও মিনিবাসের ভাড়া তালিকা নির্ধারণ করে তা ডিজিটাল ডিসপ্লের মাধ্যমে গণপরিবহনের ভেতরে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিআরটিএর উদ্যোগে গণপরিবহনে জিপিএস প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এই প্রযুক্তি চালু হলে যানবাহনের অবস্থান ও গতি পর্যবেক্ষণ সহজ হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ নানা অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা রেকর্ড হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ক্রয় কার্যক্রমে অনিয়মের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণে ৮১টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বিজেএমসির অধীনে থাকা ২৫টি পাটকলের মধ্যে বর্তমানে ৯টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালু রয়েছে। বাকি মিলগুলোও পর্যায়ক্রমে চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অধিকাংশ মিল চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছর ও চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বহু দেশে কাঁচা পাট ও পাটপণ্য রপ্তানি হয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানান, নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুদের সহায়তায় বিভাগীয় শহরগুলোতে সেফ হোম ও নির্যাতন প্রতিরোধ সেল চালু রয়েছে। জাতীয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১০৯-এর মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ সেবা পেয়েছেন।
এ ছাড়া দেশে ১৪টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা ও কাউন্সেলিং দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়িয়ে ৩৭টিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবের মাধ্যমেও নির্যাতনের ঘটনায় প্রমাণ সংগ্রহ ও বিচারপ্রক্রিয়ায় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
