নোয়াখালী সদর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাঁদা না দেওয়ায় যুবদল নেতার হামলায় আহত বৃদ্ধ মো. আবদুল হাই (৭৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গত মঙ্গলবার উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজারে হামলার শিকার হয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
নিহতের পরিবার জানায়, প্রায় এক বছর আগে কেনা একটি জমিতে দোকানঘর নির্মাণের কাজ শুরু করলে নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক লিটন চৌধুরী বাধা দেন। লিটন ওই জমিটি তাঁর মামার দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে যেতে হলে সাড়ে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সালিশ হলেও লিটন জমির কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় গত মঙ্গলবার সকালে লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় জমির মালিক আবদুল হাইকে মারধর করে ব্রিজের ওপর থেকে খালে ফেলে দেওয়া হয়। হামলায় তাঁর দুই ছেলেও আহত হন। প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত যুবদল নেতা লিটন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুর রহিম রিজভী জানিয়েছেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে তাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। চাঁদা দাবির অভিযোগ প্রমাণিত হলে লিটনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
