দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর সীমিত পরিসরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তবে আগের মতো অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকছে না; দিনে সর্বোচ্চ ১৫টি জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে বলে জানানো হয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিটি জাহাজকে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং নির্ধারিত কঠোর প্রটোকল মেনে চলতে হবে।
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরিকল্পিত বৈঠকের আগে রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই তথ্য জানান এক ইরানি কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদারকি করছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী জাহাজগুলোকে ওমান উপকূলের প্রচলিত পথ এড়িয়ে ইরানের উপকূলের কাছ দিয়ে চলতে হচ্ছে। মূল পথে মাইন থাকার আশঙ্কার কথা তুলে ধরে এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর এটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সীমিত আকারে চালু হলেও ইরান সতর্ক করেছে যে, নিকট ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচল যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয় ও কারিগরি সীমাবদ্ধতার দোহাই দিয়ে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হচ্ছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যমতে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য প্রতিটি জাহাজ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল বা মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এছাড়া প্রতি ব্যারেল তেল পরিবহনে ১ ডলার করে অতিরিক্ত ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এই অর্থ সাম্প্রতিক যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই ইরানের বড় কোনো পদক্ষেপ। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রণালি বন্ধ থাকলে কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন, যা যুদ্ধবিরতির ফলে বর্তমানে স্তিমিত হয়েছে। তবে টোল আদায় এবং চলাচলের সীমাবদ্ধতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।
