স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’- এই মূল অঙ্গীকার ৫৫ বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নেতারা। তারা বলেন, জুলাই সনদ নিয়েও একই ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে। শুক্রবার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র দিবস উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে জুলাই সনদ: প্রতারণার ফাঁদে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এ সভার আয়োজন করে।
সভায় সংগঠনটির সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা এখনো অর্জিত হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ক্ষমতা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে একটি স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। তিনি বর্তমান সংসদকে জনগণের গণভোটের রায় মেনে দ্রুত সংবিধান সংস্কার কার্যকর করার আহ্বান জানান। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনের যে দাবি তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর ‘জুলাই সনদ’ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।
হাসনাত কাইয়ূম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জনগণ গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও নতুন সংসদ সেই আদেশ অগ্রাহ্য করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। বর্তমান সংসদে গণভোটকে বেআইনি করার যে কোনো অপচেষ্টা জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল। তিনি আরও বলেন, অবাধ নির্বাচন, ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং অর্থ পাচার ও দুর্নীতি রোধে সংবিধান সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি।
সভায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ ছাড়া শহীদুল্লাহ ফরায়জী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার, বাকী বিল্লাহ, জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলীম, মাহবুব আলম চৌধুরী, সেলিম খান ও চারু হক বক্তব্য দেন।
