ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানকে ঘিরে নৌ অবরোধ শুরু করতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার সকাল ১০টা থেকে এই অবরোধ কার্যকর হবে। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক নৌযান চলাচল করতে পারলেও কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর থেকে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইরান। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ পথ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কাতার ও সৌদি আরব বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কাতার ইতোমধ্যে সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি আবারও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হয়েছে, যা আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে সক্ষম। পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত মানিফা তেলক্ষেত্র থেকেও প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে উপসাগরীয় দেশগুলো বিকল্প রুট ও নতুন কৌশলের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা।
