গণভোটের গণরায় প্রত্যাখ্যানের ফলে সৃষ্ট সংকটের দায় সরকারকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো—যেমন জাতীয় নিরাপত্তা, হাম রোগের মতো জনস্বাস্থ্য সংকট এবং জ্বালানি সমস্যা—নিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন ছিল।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে মূলত তিনটি বিষয় সামনে আসে—বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের অবসান, বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন, আর তাদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব ছিল সংস্কারের জন্য গণপরিষদ গঠন। পরবর্তীতে সমঝোতার ভিত্তিতে সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব গৃহীত হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করছে এবং জুলাই সনদ ও জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। তার মতে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দলটি নিজেদের অবস্থানকে শক্ত করার চেষ্টা করছে এবং গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করছে।
সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর পরিবর্তন বিদ্যমান কাঠামোর ভেতরে সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই সংস্কার পরিষদের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব বিষয়ে সম্মতি দিলেও এখন তারা সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
সংকট নিরসনে দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে হবে। অন্যথায় এর পরিণতি সরকারকেই ভোগ করতে হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। এছাড়া এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
