ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬-এর মাধ্যমে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুরনো মালিকদের কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই মালিকানায় ফেরার সুযোগ দেওয়াকে ‘লুটেরাদের পুনর্বাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকিং খাত পুনরায় দুর্নীতি ও লুটপাটের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য আত্মঘাতী হতে পারে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই আইনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে দায়মুক্তি ও বিচারহীনতার এক নতুন সংস্কৃতি তৈরি করা হচ্ছে। যারা ব্যাংক ডুবিয়েছে, তাদেরই মাত্র ৭.৫ শতাংশ অর্থ জমা দিয়ে পুনরায় মালিকানা ফিরে পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি দুর্নীতিবাজদের শাস্তি দেওয়ার পরিবর্তে বিশাল পুরস্কার দেওয়ার সমান।
টিআইবি মনে করে, ক্ষমতার পটপরিবর্তন হলেও ব্যাংক খাতে জবরদখল ও অপব্যবহারের অবসান ঘটেনি। ‘উইনার টেইকস অল’ ফর্মুলায় কেবল সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপ ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল, তার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক এবং নীতিদখলের একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ।
বিবৃতিতে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কোন জাদুবলে সাবেক লুটেরা মালিকরা হঠাৎ শুদ্ধ হয়ে গেলেন যে তাদের হাতে আবার জনগণের আমানত তুলে দেওয়া হচ্ছে? টিআইবি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, এই মালিকরা পুনরায় নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়ে নতুন করে ঋণ আদায়ের নামে ব্যাংক খাতকে আরও গভীরতর দেউলিয়াপনার দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার চূড়ান্ত বোঝা জনগণকে বইতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান সরকারকে এই ‘আত্মঘাতী’ সিদ্ধান্ত পুনরায় বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া হলে ব্যাংক খাতে গুণগত কোনো পরিবর্তন আসবে না। বরং এটি সাধারণ আমানতকারীদের মনে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত করবে।
