রোগমুক্তির আশায় মানুষ যাকে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ভাবেন, সেই চিকিৎসকের হাতেই অপারেশন থিয়েটার হয়ে উঠল সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গা। ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনৌতে এক নারী রোগীকে চিকিৎসার নামে অজ্ঞান করার সুযোগে অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে হাসপাতালের পরিচালক ও অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) লখনৌ পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মে লখনৌয়ের বকশি কা তালাব থানায় এই ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগীর পরিবার। অভিযোগে বলা হয়, ওই থানার অন্তর্গত ইন্দৌরাবাগ এলাকায় অবস্থিত তেজাস হাসপাতালে ভর্তি এক নারী রোগীর সঙ্গে চিকিৎসা চলাকালীন অত্যন্ত অশালীন ও আপত্তিকর কাজ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ও কর্মরত চিকিৎসক। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং এসসি/এসটি আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বিজয় কুমার গিরি। তিনি মূলত সিতাপুর জেলার বাসিন্দা হলেও লখনৌয়ের তেজাস হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করার পর পুলিশ বিজয় কুমার গিরিকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। পুলিশের তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, গত ১৯ মে ওই নারী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন এবং ২১ মে ওটির ভেতরে চিকিৎসা চলাকালীন তাকে অবশ করে এই জঘন্য অপরাধ করা হয়। জেরার মুখে তিনি অপারেশন থিয়েটারে ওই রোগীকে ধর্ষণ করার কথা স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর মামলার সঙ্গে জড়িত সব আলামত সংগ্রহ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, জেরার সময় ওই চিকিৎসক নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। তবে অতীতে তিনি এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
