তুরস্ক এখন আর কেবল ছোটখাটো নজরদারি বিমান তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ড্রোন প্রযুক্তিতে গড়ে তুলেছে এক বিশাল সাম্রাজ্য। ইসরায়েলি এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, তুরস্কের কাছে বর্তমানে অন্তত ১০ লাখ ড্রোন রয়েছে। এই বিশাল ড্রোন বহর যেকোনো শক্তিশালী পদাতিক বাহিনীর সমকক্ষ কিংবা তার চেয়েও বেশি ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। বৈশ্বিক সামরিক ড্রোনের বাজারের প্রায় ৬৫ শতাংশই এখন আঙ্কারার দখলে।

আজকে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যুদ্ধ থেকে শুরু করে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধ—সবখানেই রুশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করে নিজেদের সামরিক শক্তির জানান দিয়েছে তুর্কি প্রযুক্তি। ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি সম্প্রতি সুদানেও তুর্কি ড্রোন তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে। সুদানি বাহিনীর তুর্কি ‘আঙ্কা’ ড্রোন ‘রকেটসান’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আকাশে থাকা অবস্থাতেই একটি চীনা ড্রোন ভূপাতিত করে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, তুর্কি ড্রোন এখন আকাশে প্রতিপক্ষের ড্রোন শনাক্ত, ধাওয়া এবং ধ্বংস করতে পূর্ণ সক্ষম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রগতি এবার ইয়েমেন যুদ্ধে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে। হুথি বাহিনীর ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে থাকা সৌদি আরবের সামরিক ও প্রযুক্তিগত যেকোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। রিয়াদকে কেবল ড্রোন নয়, বরং একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক যুদ্ধ-সিস্টেম সরবরাহ করার সক্ষমতা রাখে আঙ্কারা; যেখানে ‘বায়কার’ ড্রোন তৈরি করবে, ‘আসেলসান’ দেবে রাডার প্রযুক্তি এবং ‘রকেটসান’ সরবরাহ করবে নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র।
সৌদি আরব যদি কৌশলগতভাবে তুরস্কের সাথে এই সামরিক সমঝোতা কাজে লাগায়, তবে ইয়েমেনের আকাশে তুর্কি ড্রোনের পুরো ঝাঁক বা ‘সোয়ার্ম’ দেখা যেতে পারে। এসব ড্রোন একই সাথে আকাশ ও মাটিতে নজরদারি চালানোসহ হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র উড্ডয়ন কেন্দ্র, কমান্ডারদের অবস্থান এবং অস্ত্রাগারে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম। বিশ্ব রাজনীতিতে পরীক্ষিত ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ তুর্কি ড্রোন প্রযুক্তি ইয়েমেন যুদ্ধের ময়দানে পুরোপুরি সক্রিয় হলে ইয়েমেন যুদ্ধক্ষেত্রসহ তাদের পেছনে থাকা আঞ্চলিক শক্তিগুলোর পুরো সামরিক হিসাবনিকাশ মুহূর্তেই বদলে যেতে পারে।







