মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীরা দেশীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শাখা-সংগঠন নামেই সেখানে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে “যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ”, “যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি” বা “যুক্তরাজ্য বিএনপি” ব্যানারে কার্যক্রম চলছে। তবে এসব ব্যানারের কোনো নিবন্ধন নেই বলে জানা গেছে।
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আইনে বিদেশে কোনো রাজনৈতিক দলের শাখা গঠনের বিধি-নিষেধ রয়েছে। তবুও বাস্তবে মূল দলের অনুমোদন নিয়েই প্রবাসীদের কমিটি করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশে কমিটি গঠন করেছে। গণঅধিকার পরিষদও প্রায় ৫০ দেশে “প্রবাসী অধিকার পরিষদ” নামে সংগঠন পরিচালনা করছে।
আইনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও শাস্তির কোনো বিধান নেই। নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কমিশনের সদস্য আব্দুল আলীম বলেন, বিদেশে কোনো দলের শাখা থাকলে তার নিবন্ধন বাতিল হবে কিনা বা কী শাস্তি হতে পারে—তা আইনে স্পষ্ট নয়। এটিকে আইনের বড় দুর্বলতা উল্লেখ করে তিনি জানান, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে এ নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দেশের বাইরে দলীয় কর্মকাণ্ড বন্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই, বরং রাজনৈতিক দলগুলোই এর ফায়দা নিচ্ছে। পর্যবেক্ষকেরা আরও বলেন, বিদেশেও তৎপরতা চালাতে কৌশলী জামায়াত, আর অন্য দলগুলো নামের ব্যানার ব্যবহার করলেও আইন বাস্তবায়নে নেই কোনো নজরদারি।
