বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে রূপান্তর করা হয়েছে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে’। গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর সরকার অভ্যুত্থানের স্মৃতিরক্ষার্থে গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। এখানে অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, সংগ্রাম, শহীদ ও বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষিত থাকবে।
তবে এ জাদুঘর নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের ইউটিউব চ্যানেল ভয়েস বাংলা-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দল ক্ষমতায় ফিরলে এই স্মৃতি জাদুঘর প্রথমেই ভেঙে ফেলা হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনকে কেন জাদুঘরে রূপান্তর করা হলো এবং সেখানে কী প্রদর্শিত হবে।
এছাড়া একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ষড়যন্ত্র : ভেতরে ও বাইরে শীর্ষক টকশোতে অংশ নিয়ে আনিস আলমগীর মন্তব্য করেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ক্ষমতা ছাড়লে তার বাড়ি ও গ্রামীণ ব্যাংকেও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তার দাবি, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে ‘মব কালচার’ তৈরি হয়েছে এবং এটি আরও বিস্তৃত হতে পারে।
আনিস আলমগীর দীর্ঘদিন আওয়ামী ঘরানার মালিকানাধীন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন এবং শেখ হাসিনার আমলে বিভিন্ন সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকরা বলছেন, তার এসব মন্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে উত্তেজনা সৃষ্টির শামিল।
অন্যদিকে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক সফররত প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের প্রতিনিধিদলে থাকা এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের ওপর পতিত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা মিজানুর রহমানকে আটক করা হলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের ঘনিষ্ঠ মহল এ ধরনের উসকানিমূলক প্রচারণার মাধ্যমে দেশে বিভ্রান্তি ও অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
