জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের নিবন্ধনের আবেদনপত্রে প্রতীক হিসেবে শাপলা, কলম ও মোবাইল ফোন চেয়েছিল। পরে আবার আবেদন সংশোধন করে শাপলা প্রতীকের পরিবর্তে লাল শাপলা বা সাদা শাপলা রাখার অনুরোধ জানায়। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, শাপলা প্রতীক জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তালিকায় নেই। তাই শাপলা প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়।
ইসির নির্বাচন সহায়তা শাখার উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ৭ অক্টোবরের মধ্যে এনসিপিকে ৫০টি বিকল্প প্রতীকের তালিকা থেকে একটি বেছে নিতে হবে।
বিকল্প প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে—আলমিরা, খাট, উটপাখি, ঘুড়ি, কাপ-পিরিচ, চশমা, দালান, বেগুন, চার্জার লাইট, কম্পিউটার, জগ, জাহাজ, টিউবওয়েল, টিফিন ক্যারিয়ার, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, ফ্রিজ, তবলা, বক, মোরগ, কলম, তরমুজ, বাঁশি, লাউ, কলস, চিংড়ি, থালা, বেঞ্চ, লিচু, দোলনা, প্রজাপতি, বেলুন, ফুটবল, ফুলের টব, মোড়া, বালতি, কলা, বৈদ্যুতিক পাখা, মগ, মাইক, ময়ূর, মোবাইল ফোন, শঙ্খ, সেলাই মেশিন, সোফা, স্যুটকেস, হরিণ, হাঁস ও হেলিকপ্টার।
চিঠিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা অনুযায়ী প্রতীক একবার বরাদ্দ হলে সেটিই দলটির জন্য সংরক্ষিত থাকবে। অন্য প্রতীকে পরিবর্তন চাইলে সেটি অবশ্যই বৈধ তালিকার মধ্য থেকে হতে হবে। শাপলা যেহেতু তালিকায় নেই, তাই বরাদ্দ সম্ভব নয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, “রাজনৈতিক নেতারা অনেক সময় অনেক কথা বলেন। কিন্তু ইসি কেবল আইন অনুযায়ী কাজ করবে। শাপলা প্রতীক কোনো দলকে দেওয়া সম্ভব নয়। এনসিপি চাইলে ৫০ বিকল্প প্রতীক থেকে একটি বেছে নিতে পারবে।”
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫২। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রথা চালুর পর এ পর্যন্ত ৫৬টি দল নিবন্ধিত হলেও পরে কয়েকটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। সম্প্রতি আদালতের আদেশে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা নিবন্ধন ফিরে পেলেও ইসি কেবল জামায়াতকে পুনরায় নিবন্ধন দিয়েছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, এনসিপিসহ দুই দলকে নিবন্ধন দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১৩টি দলের আবেদন পর্যালোচনায় রয়েছে।
