বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে তীব্র নাটকীয়তা সৃষ্টি হয়েছে। অবশেষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শুধু তামিম নন, তার নেতৃত্বে থাকা পুরো প্যানেলের ১৫ জন প্রার্থীই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর ফলে বহুল আলোচিত এ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) তামিম ইকবালের সরে দাঁড়ানোর পরপরই নির্বাচন নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ সামনে আসে। তামিমের দাবি, বিসিবি নির্বাচন এবারও “ফিক্সিং” বা পাতানো নির্বাচনে পরিণত হয়েছে, যা ক্রিকেট ইতিহাসে একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, সরকারি হস্তক্ষেপ এবং কাউন্সিলর মনোনয়নে ফিক্সিং হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তামিমদের বিরুদ্ধে। তিনি দাবি করেছেন, আসলে নির্বাচন ফিক্স করার চেষ্টা করেছিলেন তামিমরা নিজেরাই, কিন্তু তাতে ব্যর্থ হয়েছেন। এ নিয়ে তিনি আরও বলেন, সভাপতিকে ফোন দিয়ে কাউন্সিলর দিতে চাপ দেওয়া এবং ডিসিদের ধমক দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
রাজনৈতিক কারণেও বিসিবি নির্বাচনের বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। তামিমের প্যানেলে বিএনপি সমর্থিত প্রায় ১৫ জন প্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে। এমনকি বিএনপির চার শীর্ষ নেতার ছেলে—বরকতউল্লাহ বুলুর ছেলে ইমরান, মির্জা আব্বাসের ছেলে ইয়াসির আব্বাস, আমীর খসরুর ছেলে ইসরাফিল খসরু ও সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ আহমদ—তামিমপন্থী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারপন্থী প্রার্থীদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা হয়েছিল। ৯:৩ অনুপাতে (বিএনপিপন্থী ৯, সরকারপন্থী ৩) ক্লাব ক্যাটাগরিতে বোর্ড পরিচালক ভাগাভাগির প্রস্তাবও উঠে আসে। কিন্তু তামিম সব ১২টি পরিচালক পদ দাবি করায় সমঝোতার পথ ভেঙে যায়। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও।
ক্রীড়া বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি ও সরকারপন্থীদের মধ্যে পর্দার আড়ালে সমঝোতার চেষ্টা চললেও শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। এতে ক্ষোভে ও হতাশায় প্যানেলসহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তামিম। সিনিয়র ক্রীড়া সাংবাদিক এম এম কায়সারের মতে, তামিম বিএনপির নেতাদের ছেলেদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৃত সংগঠকদের জায়গা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে সরকারপন্থীদের সঙ্গেও সমঝোতা হয়নি। ফলে চারদিকের চাপ সামলাতে না পেরেই নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।
সবমিলিয়ে, বিসিবি নির্বাচন ঘিরে এখন নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—এটি কি শুধু তামিমের ব্যর্থতা, নাকি বিএনপিরও রাজনৈতিক পরাজয়? অনেকেই মনে করছেন, নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করেই বিএনপিপন্থীরা সরে দাঁড়িয়েছেন।
এখন ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের দিকে, যা অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। শেষ মুহূর্তের এই নাটকীয়তার পর নির্বাচনের ফল কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই দেখার বিষয়।
