বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুজিবুর রহমানকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি শেখ হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’-এর প্রভাব বিস্তারে অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরপরই তিনি সপরিবারে ময়মনসিংহ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে দাবি উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতায় বর্তমানে অবস্থানরত মুজিবুর রহমান সেখানে থেকেও শেখ হাসিনা ও ভারতের ডিপ স্টেটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। ভারতীয় ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (আইবি) ডেটাবেজেও তার নাম সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে। সূত্র মতে, ওই তালিকায় আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত ৭৫০ জনেরও বেশি রাজনৈতিক নেতা, আমলা, সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগও তার বিরুদ্ধে গুরুতর। দুদকের অনুসন্ধানে মুজিবুর রহমানের নামে ৩৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে এবং ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমির খোঁজ মিলেছে। শুধু তাই নয়, তার সমন্বয়ে ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ব্যাপক দমন-পীড়ন, ২০১৩ সালের হেফাজতের ওপর হামলা এবং অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শেখ হাসিনা এককভাবে টিকে থাকতে পারেননি—তার চারপাশে গড়ে ওঠা বিশেষ কিছু সামরিক ও আমলাতান্ত্রিক চক্র তাকে ক্ষমতায় দীর্ঘস্থায়ী হতে সহায়তা করেছে। সেই চক্রের অন্যতম শক্তিশালী মুখ ছিলেন লে. জে. মুজিব। একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন—
“শেখ হাসিনার পতনের পরও যারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন, তারা মূলত রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধে জড়িত। এইসব সেনা ও আমলাদের বিচারের মুখোমুখি করা ছাড়া বাংলাদেশের জনগণের প্রতি সুবিচার সম্পন্ন হবে না।”
আরেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেছেন—
“আজ যদি মুজিবের মতো সেনা কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য বার্তা যাবে যে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদেও থেকেও বিশ্বাসঘাতকতা করলে পালিয়ে বেঁচে যাওয়া যায়। এটা রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।”
এখন প্রশ্ন উঠেছে—অন্তর্বর্তী সরকার কি কেবল শেখ হাসিনাকেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে, নাকি তার চারপাশের এই শক্তিশালী সহযোগী চক্রকেও বিচারের আওতায় আনবে? দেশি-বিদেশি বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে উভয়কেই সমানভাবে বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি।
