কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দুই ভিন্ন হামজাকে নিয়ে একটি শীর্ষ সারির জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। পত্রিকাটিতে প্রকাশিত ছবিতে দেখানো হয়েছে মৌকারা ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হামজার বাড়ি, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মী। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ২২ সেপ্টেম্বর।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী যে আমির হামজা রাসেলের মুক্তির দাবিতে মিছিল করেছে, তার বাড়ি মক্রবপুর ইউনিয়নে। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৬ সেপ্টেম্বর। দুই ভিন্ন ইউনিয়নের দুই ভিন্ন ব্যক্তিকে একই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করায় সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি।
রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—একটি শীর্ষস্থানীয় জাতীয় দৈনিকের এমন মৌলিক তথ্যভ্রান্তি দেশের সাংবাদিকতার মান ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সাধারণ পাঠক ও স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের ভুল সংবাদ কেবল বিভ্রান্তিই ছড়ায় না, বরং নিরপরাধ মানুষকেও অযথা বিতর্কে জড়িয়ে ফেলে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে অবহেলা এখন বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে। তারা বলছেন, মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া শুধু অনলাইনের ভরসায় সংবাদ তৈরি করলে এরকম ভুলই ঘটবে।
একজন স্থানীয় প্রবীণ শিক্ষাবিদ মন্তব্য করেন, “আমির হামজা নামের একাধিক ব্যক্তি একই উপজেলায় থাকা কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। কিন্তু সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো তথ্য যাচাই করে সঠিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা। এমন ভুল সাংবাদিকতার দুরবস্থার নগ্ন চিত্র তুলে ধরে।”
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পত্রিকাটির প্রতি পাঠক মহলে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, দেশের শীর্ষ পত্রিকায় এমন দায়িত্বহীন সংবাদ প্রকাশ দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক।
