পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের খুজদার জেলার জেহরি এলাকায় ভারতের মদদপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। শনিবার (৪ অক্টোবর) দেশটির নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলো জানায়, ওই এলাকায় সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবর পেয়ে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী গভীর রাতে অভিযান চালায়। এতে তীব্র গোলাগুলি ও সংঘর্ষের পর ১৪ জন সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং আরও ২০ জন আহত হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, নিহতরা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’–এর সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সদস্য।
এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “অভিযান এখনো চলছে। সন্ত্রাসীদের পুরো নেটওয়ার্ক ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এর কয়েক দিন আগেই বেলুচিস্তানের শেরানি জেলায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে (আইবিও) পরিচালিত আরেক অভিযানে সাতজন ‘ভারতপন্থি সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছিল। সে সময় আইএসপিআর জানায়, অভিযানের সময় নিষিদ্ধ সংগঠন তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) সদস্যদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক বন্দুকযুদ্ধ হয়, যাতে বেশ কয়েকজন বিদ্রোহী নিহত হয়।
এদিকে, ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানে সহিংসতা বেড়েছে ৪৬ শতাংশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মাসে দেশজুড়ে ৩২৯টি সহিংস ঘটনায় ৯০১ জন নিহত ও ৫৯৯ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৫১৬ জন ‘সন্ত্রাসী’, ২১৯ জন সাধারণ নাগরিক এবং ১৬৬ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
প্রতিবেদনটি আরও জানায়, পাকিস্তানে সংঘটিত সহিংসতার ৯৬ শতাংশ ঘটেছে খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে, যেখানে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে ভারতীয় হস্তক্ষেপ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অভিযানগুলো পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে এবং ভারতের সঙ্গে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
