২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের শাসনের অবসান ঘটে। এই পটপরিবর্তনের পর দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের অনেকেই দেশ ত্যাগ করেন এবং বিদেশে অবস্থান নিতে বাধ্য হন। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কিছু নারী নেত্রী ও সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সামাজিকমাধ্যমে পরিচয় গোপন করে কার্যক্রম
অনেকেই নিজেদের পুরনো আইডি বদলে বা ছদ্মনামে নতুন আইডি খুলে মতপ্রকাশ করছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত পোস্টের আড়ালে রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরছেন। গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, তাদের মধ্যে কয়েক হাজার আইডি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা, মন্তব্য এবং প্রচারনায় সক্রিয়। যোগাযোগ রক্ষায় ব্যবহার করা হচ্ছে টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, গুগল মিট এবং ভাইবারের মতো প্ল্যাটফর্ম।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও বিতর্ক
শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, যিনি এক সময় অটিজম বিশেষজ্ঞ ও পরবর্তীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন, বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের এক অনুসন্ধানে তার নিয়োগসংক্রান্ত সিভিতে তথ্য গরমিলের অভিযোগ উঠে আসে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান। সামাজিকমাধ্যমে তিনি নিয়মিতভাবে মায়ের (শেখ হাসিনা) স্বাস্থ্যের খবর এবং রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরছেন।
তাহসিন বাহার সূচনার অবস্থান
প্রাক্তন এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কন্যা তাহসিন সূচনা বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তিনি ফেসবুকে বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা এবং মন্তব্য দিয়ে নিয়মিত সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষত শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে তিনি একাধিক পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের হালিমা বেগমের বক্তব্য
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা লীগের নেত্রী হালিমা বেগম শেখ হাসিনার জন্মদিন এবং অন্যান্য দলীয় নেতাদের নিয়ে নিয়মিত শুভেচ্ছা বার্তা ও শুভকামনা জানিয়ে পোস্ট করে থাকেন। যদিও এসব পোস্ট রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ নাও মনে হতে পারে, তবে এগুলোর বেশিরভাগই ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা এবং সমর্থনমূলক।
প্রবাসী সাংবাদিক সুলতানা রহমান
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক সুলতানা রহমান বিভিন্ন সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা এবং আগের সরকারের পক্ষে মত প্রকাশ করে থাকেন। নিউ ইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে তার উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
জ্যোতিকা জ্যোতির সামাজিকমাধ্যমে সক্রিয়তা
চিত্রনায়িকা জ্যোতিকা জ্যোতি, যিনি একাধিকবার আওয়ামী লীগের টিকিটে নির্বাচন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইস্যুতেও ফেসবুকে সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও তাকে পূর্বে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
অপু বিশ্বাসের অবস্থান
চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস অতীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও বর্তমানে তিনি প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বক্তব্য না দিলেও তার কিছু পোস্টকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা দিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি সাম্প্রতিক পোস্টে তিনি ‘সত্য ও মিথ্যার’ প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে আসেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে।
ছদ্মনামে সক্রিয় আরও অনেকে
অনেক সাবেক নেতাদের স্ত্রী ও সন্তানরাও বিভিন্ন ছদ্মনামে সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তারা অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করে চলেছেন। সচেতন মহলের মতে, এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত বার্তা ও মন্তব্য গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে।
সরকারের হুঁশিয়ারি
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
